বৈরাগী বাড়ি মন্দিরে প্রতিমার মুকুট কালেমা লেখা, ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

কাজী রাকিব
কাজী রাকিব, নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২০

মন্দিরে প্রতিমা
বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগী বাড়ি মন্দিরের প্রতিমা দুর্গার মাথার মুকুটে আরবিতে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” লেখার ঘটনায় ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রসাশক মোস্তাইন বিল্লাহ।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পাথরঘাটা সার্কেল, পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপ পরিচালক ইসলামী ফাউন্ডেশন, পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা পূজা পরিষদের সভাপতি কে সদস্য করে এই ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা জানান জেলা প্রশাসক আগামী সাত দিনের মধ্যে দুর্গা প্রতিমার মুকুটে কালেমা লেখার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে ঐ দুর্গা প্রতিমার কারিগর শ্রী গোবিন্দ পাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হয়ে মুচলেকার মাধ্যমে মুসলিম জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এবং ভবিষ্যতে কোনো প্রতিমা তৈরি করবেন না বলেও লিখিত দিয়েছেন।

তবে বিষয়টি জেলা প্রশাসক মুস্তাই বিল্লাহ আমলে নিয়ে এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে প্রতিমা বিসর্জনের সময় প্রতিমা দুর্গার মাথার মুকুটে কলেমা খচিত একটি লেখা দেখতে পেয়ে সেই ছবি ও ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করলে মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

ছবিতে দেখা যায় দুর্গার মাথার মুকুট এর পিছনের অংশে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একটি বইয়ের মলাট দিয়ে নকশা তৈরি করে প্রতিমার মুকুটে হিসেবে ব্যাবহার করা হয়েছে। যাতে আরবি অক্ষর এ বড় বড় করে লেখা ছিল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ”।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে নিঃশর্ত ক্ষমা চান মন্দির কমিটির সভাপতি বাসুদেব শীল ও পূজা পরিষদের সভাপতি অরূপ কর্মকার।

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)