অভিনয় জীবনে শুভ্রা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে , স্বপ্নজালসহ অন্যান্য কাজের নানা বিষয়ে আলাপ পরিমনি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ,
প্রকাশিত: ০১:৪২ এএম, ৮ এপ্রিল ২০১৮

পরিমনি,র স্বপ্নজাল সিনেমা
আলাপে ছিলেনঃ চিত্রনায়িকা পরীমণি ও ইয়াশ রোহান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘স্বপ্নজাল’ মুক্তি পেয়েছে গত ৬ এপ্রিল। স্বপ্নজালসহ পরীমণির অন্যান্য কাজের নানা বিষয়ে কথা হয়।

স্বপ্নজাল-এর দর্শক সাড়া কেমন?
অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি। সবাই সবার মতো ভালো করছে। কিন্তু বাবু ভাইয়ের অভিনয় নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। কারণ সব সময় সে নিজেই নিজেকে টেক্কা দেয়। আমি একটা জায়গায় একটু হতাশ।

কেন?
রোহান একেবারেই নতুন মুখ। তার অভিনয়ও সুন্দর হয়েছে। কিন্তু তাকে নিয়ে কেন জানি কেউ কিছু বলছে না। রোহান প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেছে। আমার প্রশ্ন ও কি একটুও কারও মন ছুঁতে পারেনি? সবাই যদি নির্দিষ্ট কারো ওপর ফোকাস দেয়, তাহলে অনেকেই আটকে যাবে। আমার জন্যও স্বপ্নজাল একটা চ্যালেঞ্জ ছিল।

কেমন?
আমাকে যেভাবে সবাই চেনে। ওই জায়গা থেকে বেড়িয়ে এসে এই রকম একটা চরিত্রে অভিনয় করা একটু কঠিন ছিল। সবাই যখন ছবিটি দেখে বাহবা দিচ্ছে, আমার প্রশংসা করছে তখন মনে হয়েছে আমি পেরেছি। আমার ক্যারিয়ার এমনভাবে শুরু হয়েছে হঠাৎ এমন একটা ছবি এবং চরিত্রে অভিনয় করব এটা কেউ ভাবেনি। মানুষের আশার বাইরে ছিল।

স্বপ্নজাল ছবিটি দেখে আপনার প্রতি দর্শকদের প্রত্যাশা আরো বেড়ে গেছে-
যত বেশি ভালোবাসা পাবো, নিজেকে ততোবেশি ধরে রাখতে পারবো। এটা মনে করতে পারবো যে, আমি জানি আড়াইটা বছর আমার ভেতর থেকে কি গেছে। আমি যদি ফিল না করতাম, তাহলে এই চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকতে পারতাম না। এটা ঠিক। নায়িকা হওয়া খুব সোজা। অভিনেত্রী হওয়া কঠিন। বাবু ভাই শক্তিমান অভিনেতা। প্রিমিয়ার শেষে আমি বাসায় আসার পর ‘অনেক সুন্দর অভিনয় করেছো পরী’ লিখে বাবু ভাই আমাকে এসএমএস করেছে। তখন আমার মনে হয়েছে এটা সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এর কি রিপ্লাই দেবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না।

একেবারেই নতুন নায়কের বিপরীতে অভিনয় করার সময় কোনো দ্বিধা ছিল কী?
কে হিরো কে হিরো না? অভিনয় করার সময় এসব নিয়ে মাথায় কিছু কাজ করেনি আমার। আমি সুন্দরভাবে ছবিটি শেষ করবো এটাতে বিভোর ছিলাম।
প্রিমিয়ার শো শেষে রোহানকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন?
আমি আসলে পুরো ছবিটি দেখে কাঁদিনি। আমি কী জানি অবাক হয়ে দেখছিলাম। ছবি শেষের পর আমার মনে হয়েছে আমিতো শুভ্রা। এই সময় আমার মাথায় কিছু ছিল না। চারদিকে এতো এতো মানুষ আমার মনেই ছিল না। তাই ছবি শেষে আবেগে রোহানকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলাম।

পরীমণিকে সবাই শুভ্রা বলছে-
আমি প্রিমিয়ারের দিন পুরো ছবিটা দেখেছি। এর আগে সম্পূর্ণ ছবি আমার দেখা হয়নি। অল্প অল্প করে দেখেছিলাম। সবার সাথে শুভ্রাকে দেখে আমি আপ্লুত হয়েছি। সবাই যখন শুভ্রা শুভ্রা বলছে, তখন মনে হয়েছে আমি পেরেছি। ছবিটি দেখার সময় আমি ভাবছিলাম সবাই জিজ্ঞেস করবে আমার অনুভূতি কি? আমি আসলে কি বলবো। আমি কিন্তু বুঝতে পারছি ভেতরে আমার কি হচ্ছে। সেটা মুখে কিভাবে প্রকাশ করবো। আমি কোনো ভাষা আবিষ্কার করতে পারছিলাম না। আমি এখন পর্যন্ত কোনো ভাষা আবিষ্কার করতে পারিনি। যা দিয়ে মানুষকে বোঝাতে পারবো।

পরী আপনি সিনেমাটি করবেন না বলেছিলেন?
শুটিংয়ে প্রথম ও দ্বিতীয়দিন কাঠের সিঁড়িতে ডিরেক্টর আমাকে ওঠানামা করালো। রাতের বেলা অনেক কিছু ভেবে ডিরেক্টরকে বললাম আমি চলে যাবো। আমার পক্ষে এই ছবি করা সম্ভব না। ডিরেক্টর বললো কালকের দিন শুটিং করো। ভালো না লাগলে আমাকে বলো, আমি তোমাকে দিয়ে আসবো। পরদিন শুটিংয়ে গেলাম। মুড অফ, মেকআপ রুমে গেলাম। মেকআপম্যান বললো গুড মর্ণিং শুভ্রা। আমি ধাক্কা খেলাম। আমি নরমাল ভাবে নিয়েছি। একটু পর প্রোডাকশন বয় এসে বললো শুভ্রা আপু কেমন, চা খাবেন? একসময় পুরো ইউনিট আমাকে শুভ্রা ডাকা শুরু করলো। আমিও শুভ্রার মায়ায় পড়ে গেলাম।

শুভ্রার মধ্যে কতোদিন নিজেকে ধরে রাখতে চান-
আমার অভিনয় জীবনে শুভ্রা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমাকে ফিল করিয়েছে কিভাবে পথ চলতে হবে। আমাকে কি করা উচিত, কি করা উচিত না।

আর কিছু অনুভব করেছেন?
আমি আমাকে আর এক ইঞ্চিও ঠকাবো না। এখন আমাকে ভালো কাজ করতে হবে। অনেকেই বলছে স্বপ্নজাল ভালো যাচ্ছে, অনেক প্রশংসা পাচ্ছে তারপরও নায়িকা পরীমণির হাতে কোনো ছবি নেই। আমি তাদেরকে বলতে চাই আমি সরি, আমি করবো না। সারাজীবন যদি কাজ না করি এতে আমার কোনো আফসোস নাই। কারণ আমি এ ছবির মাধ্যমে অনেক কিছু পেয়ে গেছি। স্বপ্নজালে এতো সুন্দর চরিত্রে অভিনয় করে এখন আবার কি ধরনের চরিত্রে পরীমণি কাজ করলো। এতে করে আমাকে আমি ক্ষমা করতে পারবো না।
এ এম বি / পাথরঘাটা নিউজ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)