পটুয়াখালীতে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ,
প্রকাশিত: ১১:২৭ এএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগপটুয়াখালী সদর উপজেলার পায়কুঞ্জ গিলাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. এলিজা বেগমের অপসারণ চেয়ে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক এবং শতাধিক এলাকাবাসী লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দফতরে এ অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালে ওই শিক্ষিকা ওই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। নিয়মিত স্কুলে না এলেও হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর বিদ্যমান থাকে। আবার বিদ্যালয়ে এলেও পাঠদান কক্ষে প্রবেশ না করে স্নেহভাজনদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তার এ কর্মকাণ্ডে স্কুলের অন্য শিক্ষকরা আপত্তি জানালে তাদের সঙ্গে অশালীন আচারণ করেন প্রধান শিক্ষক।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভর্তি ফি, সমাপনী পরীক্ষার সনদ বাবদ অর্থ নেয়া, পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায় এবং জন্মনিবন্ধন প্রত্যয়ন প্রদানে অর্থ নিয়ে থাকেন। তার এ অনিয়ম নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হয়ে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া বিদ্যালয়ের পুরাতন বই, আসবাবপত্র বিক্রি করে সেই অর্থ নিজেই আত্মসাৎ করেন। বিদ্যালেয় বার্ষিক বরাদ্দ স্লিপের অর্থ যথাযথভাবে খরচ না করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সমুদয় অর্থ নিজেই আত্মসাৎ করেন। এমনকি বিদ্যালয়ের পানির ট্যাংকি, সৌর প্যানেলসহ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় মালামাল নিজের বাসায় ব্যবহার করছেন।

স্কুলের পরিচালনা কমিটিতে তার হস্তক্ষেপ থাকায় পাঠদান কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে। পরিচালক পর্ষদ নির্বাচনে অন্য প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষিকাকে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করে তার কাছে তথ্য না দিয়ে অভিযুক্তের কাছে গোপন রাখা হয়েছে। পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে অংশ নেয়ারা তথ্য চাইলে তা নিয়ে টালবাহানা করেন তিনি। ইতিপূর্বে পরিচালনা পর্ষদে কমিটি গঠনে চারজন অভিভাবক সদস্য নিয়োগ দেয়া হলেও সভাপতি নির্বাচনের সময় পুরনো রেকর্ড পরিবর্তন করলে এ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

এর আগে তিনি দুমকী উপজেলার দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেন। তদন্তে এর সত্যতা প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয় উপজেলা শিক্ষা অফিস।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষিকা এলিজা বেগম জানান, আমি স্কুলের সবকিছু সঠিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করছি। তবে তার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান জানান, উভয় পক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ এসেছে, তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পাথরঘাটা নিউজ/এএসএমজে/৬ সেপ্টেম্বর

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)